চরভদ্রাসনে কানাডাপ্রবাসীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ

সিনিয়র রিপোর্টার 2 months ago 0 Comments Less than a minute

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে কানাডাপ্রবাসী শামমী আক্তারের পারিবারিক বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৬ জুলাই) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার উত্তর আলমনগরের মধুশিকদারের ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শামমী ও তাঁর জামাতার করা মামলা ও জিডি প্রত্যাহার এবং দাবিকৃত অর্থ পরিশোধ না করার কারণেই পরিকল্পিতভাবে বাড়িটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সময় শামমীর বাবা-মা, বড় ভাই মোঃ রাজু আহমেদ এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরের ভেতরে ছিলেন। তাঁদের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা বাড়ির প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে একাংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে তাঁরা চিৎকার শুরু করেন। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী মোঃ রাজু আহমেদ বলেন, “হঠাৎ বুঝতে পারি বাড়ির এক পাশে আগুন জ্বলছে এবং প্রধান দরজা বাইরে থেকে আটকানো। আমরা চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন। এর আগেও আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।”

শামমীর বাবা মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ২২ জুন ইব্রাহিম হোসাইন ও মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কয়েকজন হেফাজতে ইসলাম ও যুবদল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ে তাঁদের বাড়িতে যান। তাঁরা শামমী আক্তার ও মোহাম্মদ উজ্জলের করা মামলা ও জিডি প্রত্যাহার এবং ৪২ লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন। এ সময় শামমীকে নিয়ে কটূক্তি করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও তাঁর অভিযোগ। রাজু আহমেদ প্রতিবাদ করলে তাঁকে মারধর করা হয়। দাবিগুলো পূরণ না করলে বাড়িতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

পরিবারের অভিযোগ, শামমী আক্তার ও মোহাম্মদ উজ্জল ঢাকায় তাঁদের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দ্বারা আগে থেকেই হয়রানি, অর্থ দাবি ও হুমকির শিকার হয়ে আসছিলেন। পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক হয়রানিও যুক্ত হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁরা ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় চলে যান। তবে দেশত্যাগের পরও তাঁদের স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান জানতে চাওয়া, অর্থ দাবি, মামলা ও জিডি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বন্ধ হয়নি বলে পরিবারের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, “এই পরিবারটিকে দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। এর আগে শামমীর ভাই ও বাবাকে মারধর করা হয়েছে, ধর্মীয়ভাবে অপমান করে পরিবারটিকে সামাজিকভাবে বয়কটের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বাবাকে স্থানীয় মসজিদে প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়। এসব কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। সর্বশেষ তাঁদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আমরা চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।”

অভিযোগের বিষয়ে ইব্রাহিম হোসাইন ও মুফতি কেফায়েতুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডের পরদিন তাঁরা চরভদ্রাসন থানায় গিয়ে মামলা করতে ও আইনগত সহায়তা চাইলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সফর আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *