যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী ভিসায় আসছে বড় পরিবর্তন

সিনিয়র রিপোর্টার 14 hours ago 0 Comments Less than a minute

চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খুঁজে পেতে বিদেশি কর্মীদের জন্য থাকা ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এইচ-১বি এবং আরও কয়েক ধরনের অস্থায়ী কর্মী ভিসাধারীদের চাকরি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করেছে।

চাকরি হারানো দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ২০১৭ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড চালু রয়েছে। কোনো বিদেশি কর্মীর চাকরি চলে গেলে এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে তিনি নতুন চাকরি বা নতুন স্পনসর খুঁজতে পারেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি করা, সন্তানদের স্কুল থেকে সরিয়ে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যক্তিগত বিষয় গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও পান তারা।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে সেই সময়সীমা আর থাকবে না। চাকরি শেষ হওয়ার পর দ্রুত যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে কর্মীকে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মী যুক্তরাষ্ট্র থেকে চলে যাওয়ার পর তার নতুন নিয়োগকর্তা আবেদন করলে তিনি আবার ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসার ব্যাপক ব্যবহার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে এইচ-১বি ভিসার গুরুত্ব অনেক। ১৯৯০ সালে এই এইচ-১বি ভিসা চালু করে মার্কিন কংগ্রেস। বিশেষ দক্ষতার কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এই ভিসা ব্যবহার করে। বিশেষ করে ভারত ও চীন থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

ডেলয়েট, পিডব্লিউসি ও আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের মতো পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বড় এইচ-১বি স্পনসর। টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস, ইনফোসিস, এইচসিএল টেক ও এলটিআইমাইন্ডট্রির মতো আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানও উল্লেখযোগ্য স্পনসর।

ডিএইচএস বলেছে, নতুন নিয়মে কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী ব্যবস্থাপনায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হতে পারে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এসব পদে সমান যোগ্যতার মার্কিন নাগরিকদের নিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে ব্যবসায়িক অভিবাসন বিষয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান বেরার্ডি ইমিগ্রেশন ল-এর আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বিদেশি কর্মীদের ছাঁটাই ও চাকরি ছাড়ার প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য মানবসম্পদ বিভাগগুলোর হাতে সময় অনেক কমে যাবে। বিশেষ করে বড় প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ চাকরি হারানোর পর কর্মীর নতুন স্পনসর খোঁজার সুযোগ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

বিভিন্ন শ্রেণির কর্মী ভিসায় পড়তে পারে প্রভাব

প্রস্তাবিত পরিবর্তন শুধু এইচ-১বি ভিসাধারীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ই-১ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ভিসাধারীদের ওপরও এটি প্রযোজ্য হতে পারে। এর আওতায় থাকবে ই-২ বাণিজ্যিক যানবাহন পরিচালনাকারী ভিসাও।

সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী ও ব্যবস্থাপকদের এল-১ ভিসা এবং বিজ্ঞান, ক্রীড়া বা শিল্পকলায় অসাধারণ দক্ষতার অধিকারীদের ও-১ ভিসাও প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় আসবে।

টিএন পেশাজীবী কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মীদের জন্য এইচ-১বি১ ভিসা এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ দক্ষতার কর্মীদের জন্য ই-৩ ভিসাতেও এর প্রভাব পড়বে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈধ অভিবাসন সীমিত করার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে তার প্রশাসন। দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা ফি বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন মিশনে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার কর্মসংস্থান শেষ হওয়ার পর বিদেশি কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ কমানোর প্রস্তাব সামনে এল।

প্রস্তাবিত নিয়মটি এখনো কার্যকর হয়নি। এটি আইনে পরিণত হওয়ার আগে দুই মাসের জনমত গ্রহণের সময় রয়েছে। এই সময়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো প্রস্তাবটির ওপর মতামত দিতে পারবে। এরপর প্রশাসন সেই মতামত বিবেচনা করে নিয়মটি চূড়ান্ত করবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *